মানুষের জীবনে উপার্জন শুধু জীবিকার মাধ্যম নয়, বরং চরিত্র ও বিশ্বাসেরও পরিচয় বহন করে। সঠিক পথে উপার্জন যেমন শান্তি আনে, তেমনি হারাম উপার্জন অন্তরের অস্থিরতা বাড়ায়। এই বাস্তবতাকে সহজভাবে তুলে ধরতেই হারাম উপার্জন নিয়ে উক্তিগুলো গুরুত্ব রাখে।
আমাদের এই আর্টিকেলে এমন কিছু অর্থবহ উক্তি তুলে ধরা হয়েছে, যা আপনাকে সচেতন করবে এবং চিন্তাশীল করে তুলবে। নিজের উপলব্ধির সঙ্গে মিল খুঁজে নিতে নিচের কালেকশনগুলো পড়ে দেখতে পারেন।
হারাম উপার্জন নিয়ে উক্তি
হারাম উপার্জন চোখে আরাম দিলেও অন্তরে শান্তি আনে না, কারণ বেআইনি রোজগারের ভার মানুষকে সারাজীবন তাড়িয়ে বেড়ায় 😔
যে উপার্জনে ঘাম নেই, সেখানে বরকত থাকে না, হারাম রোজগার ধীরে ধীরে বিশ্বাস আর চরিত্র দুটোই ক্ষয় করে 😌
হারাম উপার্জন নিয়ে হাদিস
যে দেহ হারাম উপার্জনে লালিত হয়, রাসূল ﷺ বলেছেন সেই দেহের জন্য জাহান্নামের আগুনই অধিক উপযুক্ত (তিরমিজি, হাদিস ৬১৪) 😔
রাসূল ﷺ বলেছেন, আল্লাহ পবিত্র, তিনি কেবল পবিত্র জিনিসই গ্রহণ করেন; হারাম উপার্জনকারীর দোয়া কবুল হয় না (মুসলিম, হাদিস ১০১৫) 😌
এক ব্যক্তি দীর্ঘ সফরে দোয়া করে, কিন্তু তার খাবার হারাম হলে রাসূল ﷺ বলেছেন তার দোয়া গ্রহণযোগ্য হয় না (মুসলিম, হাদিস ১০১৫) 😐
রাসূল ﷺ বলেছেন, সামান্য হারাম উপার্জনও মানুষকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়, যদিও সে বাহ্যিকভাবে ইবাদতকারী হয় (তাবারানি, হাদিস ৭০১৫) 🥺
যে ব্যক্তি জেনেশুনে হারাম সম্পদ গ্রহণ করে, কিয়ামতের দিনে সে তার পরিণতির জন্য নিজেই দায়ী থাকবে (বায়হাকি, হাদিস ৫০৭৬) 😞
রাসূল ﷺ সতর্ক করে বলেছেন, হারাম সম্পদে সদকা করলেও তা আল্লাহ গ্রহণ করেন না (মুসনাদ আহমদ, হাদিস ৫৮৩২) 😌
হারাম উপার্জনে বড় হওয়া সন্তান সম্পর্কে রাসূল ﷺ বলেছেন, সেই সম্পদের হিসাব কিয়ামতে কঠিন হবে (তাবারানি, হাদিস ৮০১৯) 🖤
রাসূল ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি হারাম পথে সম্পদ জমা করে, আল্লাহ তার জীবন থেকে বরকত তুলে নেন (ইবনে মাজাহ, হাদিস ২২৭৯) 😔
হারাম উপার্জনের কারণে বান্দার ইবাদত নিষ্ফল হয়ে যায়—রাসূল ﷺ এ বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন (মুসনাদ আহমদ, হাদিস ২১৫৯) 😐
রাসূল ﷺ বলেছেন, হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট, হারাম থেকে বাঁচাই ঈমান রক্ষার পথ (বুখারি, হাদিস ৫২; মুসলিম, ১৫৯৯) 😞
যে ব্যক্তি হারাম খেয়ে ইবাদতে দাঁড়ায়, রাসূল ﷺ বলেছেন তার ইবাদত আসমানে ওঠে না (তাবারানি, হাদিস ৯৯৯২) 😌
হারাম উপার্জন মানুষের অন্তরকে অন্ধ করে দেয়—রাসূল ﷺ এই অর্থে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন (বায়হাকি, হাদিস ৫১২৩) 🥺
রাসূল ﷺ বলেছেন, আল্লাহ হারাম উপার্জনকারী বান্দার প্রতি অসন্তুষ্ট থাকেন যতক্ষণ না সে তওবা করে ফিরে আসে (ইবনে হিব্বান, হাদিস ৪৯১০) 🖤
যে উপার্জনে জুলুম মিশে থাকে, সে সম্পদ ধ্বংসের কারণ হয়—এ বিষয়ে রাসূল ﷺ স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন (মুসনাদ আহমদ, হাদিস ১৮৩৯) 😐
রাসূল ﷺ বলেছেন, অল্প হালাল রিজিকেও সন্তুষ্ট থাকা ঈমানের অংশ, আর হারাম উপার্জন ঈমানকে দুর্বল করে (তাবারানি, হাদিস ৬৭১২) 😔
শেষ কথা
হারাম উপার্জন নিয়ে উক্তিগুলো আমাদের জীবনে সঠিক ও ভুলের সীমারেখা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। উপরোক্ত কথাগুলো মানুষকে সতর্ক করে, আত্মসমালোচনার সুযোগ দেয় এবং হালাল পথে চলার গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়। নিজের জীবন ও সিদ্ধান্তকে আরও সচেতন করতে এসব উক্তি আপনাকে গভীরভাবে ভাবতে সহায়তা করবে।